ঠান্ডা লাগার লক্ষণ এবং নিরাময়ের উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
প্রকৃতির বাতাসে ঠান্ডার পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ঠান্ডাজ্বর, সর্দি ও কাশির মতো ঠান্ডাজনীত সমস্যা। নিয়মিত ওষুধ খেলেও এই ঠান্ডা নিরাময় হতে বেশ সময় লাগে।

অনেক সময় নিরাময় হওয়ার কিছুদিন পরে দেখা যায় আবার ঠান্ডাজ্বর বা সর্দি হয়েছে। এমন সমস্যার বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে, যেগুলো দেখে আপনি বুঝবেন যে আপনার ঠান্ডা পুণরায় লাগতে শুরু করেছে। তবে তার নিরাময়ও আছে আপনার হাতের কাছেই।

ক্লান্তি এবং ঘুম

আমরা সাধারণত শরীরের ছোটখাট সমস্যাগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দেই না। এটা আমাদের প্রথম ভুল। আমাদের সবার উচিত শরীরের ছোট বা বড় সব ধরনের সমস্যাগুলোকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া। যেমন ঠান্ডা লাগলে শরীর অতিরিক্ত পরিমাণ ক্লান্তিভাব অনুভব করে এবং তা অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে হতে পারে। কার্নেগী মেলনের পরিচালিত একটি গবেষণা থেকে বলা হয়, একজন মানুষ প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমালে তা তার জন্য ঠিক আছে তবে ঠান্ডাজনীত সমস্যা দেখা দিলে ঘুমের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। তবে আপনি কত সময় ধরে ঘুমুচ্ছেন তার থেকে বড় ব্যাপার হল আপনার ঘুম পরিপূর্ণ বা সাউন্ড স্লিপ হচ্ছে কি না সেটা।

গুমোট নাক খুলতে তরল পান

নর্থ ক্যারোলিনার ডিউক ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন অব ডুরহামের ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাক্তার লাউসার বলেন, ঠান্ডাজনীত সমস্যা মূলত শ্বাসযন্ত্রের একটি সমস্যা যা শুরু হয় নাক থেকে। ঠান্ডার ভাইরাসগুলো অনুষাঙ্গিক এলাকাতে আক্রমণ করে এবং শরীর এই ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকে তা বের করে দেওয়ার জন্য। যার ফলে নাকে এক ধরনের শ্লেষ্মা তৈরি হয়। ডাক্তার লাউসার আরো বলেন, আপনি আপনার শরীরকে প্রচুর পানি পান করে সাহায্য করতে পারেন। এতে শরীর ভাইরাস রোধ করতে সক্ষম হবে।

মানসিক চাপ কমান

সারাদিনের কাজের চাপ আপনাকে দিনের শেষে খুবই ক্লান্ত করে দিতে পারে, যা আপনার অসুস্থতার কারণ হয়ে উঠতে পারে। ডাক্তাররা এখন মানসিক চাপের সঙ্গে অসুস্থতার সংযোগ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। তবে এটি পরিষ্কারভাবে বলা হয় যে, অনেক দিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে থাকাটা শারীরিক কার্যক্রমের জন্য ভালো নয়। নিউ ইংল্যান্ড অব মেডিসিনের এক যুগান্তকারী গবেষণাতে বলা হয়, যেসব মানুষ বেশি চাপের মধ্যে থাকে তারা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত চাপে থাকলে শরীর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারাতে শুরু করে এবং আপনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ঠান্ডায় লবণ পানির ব্যবহার

এটা বলা হয়ে থাকে যে, অসুস্থতায় লবণ ব্যবহার করলে তা আরো খারাপ পর্যায়ে চলে যায় কিন্তু না, লবণ ইনফেকশন হওয়া রোধ করে। ডাক্তার লাউসার বলেন, ঠান্ডা লাগলে সাধারণত গলাব্যথা হয়, কথা বলতে বা খেতে বেশ অসুবিধা হয়। সেক্ষেত্রে লবণ পানি ব্যবহারের তুলনা হয় না। এটি গুমোট বাধা গলা, নাক পরিষ্কার করতে বেশ কাজ করে। জাপানের একটি গবেষণা থেকে দেখানো হয় যে, ঠান্ডা লাগলে নিয়মিত লবণ পানির কুলকচা করলে ঠান্ডা তাড়াতাড়ি নিরাময় হয়। দ্য মায়ো ক্লিনিক উপদেশ দেয় যে, ১/৪ অথবা ১/২ চামচ লবণ প্রায় এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে কুলকচা করতে হবে।

গরম পানি দিয়ে গোসল

ডাক্তার লাউসারের মতে, ঠান্ডার পুরো সময়টা হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করা ভালো। এতে করে ঠান্ডার প্রকোপটা শরীরে কম ভর করতে পারে। এছাড়া হালকা গরম পানি পান করাও ভালো। কারণ ঠান্ডা পানি পান, ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল এবং ঠান্ডা স্থানে থাকাটা আপনার ঠান্ডাজনীত সমস্যার জন্য ভালো নয়।

এছাড়াও ডাক্তার লাউসার বলেন, যাদের সাইনাসের সমস্যা রয়েছে তারা এই ঠান্ডার সময় বাসায় তৈরি চিকেন কর্ণ স্যুপ খেতে পারেন। এটি শরীরকে অনেকক্ষণ অবধি গরম রাখে। তবে প্রয়োজনমতো ডাক্তারের পরামর্শও নেওয়া উচিত।

তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি।