রোহিঙ্গাদের জন্য আদালতে আবেদন

মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে বাধা না দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে আদালতে একটি আবেদন হয়েছে। তাতে সীমান্ত সাময়িক সময়ের জন্য খোলা রাখারও নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

৫ লাখের বেশি শরণার্থীর ভার বহনের মধ্যেয় নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঢুকতে না দিতে সরকারের তৎপরতার মধ্যে হাই কোর্টে রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবু ইয়াহিয়া দুলাল।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে এই আইনজীবী সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগামীকাল এর উপর শুনানি হবে।” খবর বিডিনিউজের।

মিয়ানমারে সীমান্ত চৌকিতে জঙ্গি হামলার পর রাখাইন রাজ্যের সেনা অভিযানের মধ্যে বিপুল সংখ্যেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে সীমান্তে ছুটে এলেও বিজিবি তাদের ফেরত পাঠাচ্ছে।

বাংলাদেশে দশকের পর দশক আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরে সরকার শরণার্থী সমস্যাটর সমাধান করতে মিয়ানমারকে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।

রোহিঙ্গাদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়া কেন অমানবিক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, আইনজীবী দুলালের রিট আবেদনে এই রুল চাওয়া হয়েছে।

রুল শুনানি না হওয়া পর্যন্ত নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আবেদনে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিজিবির মহাপরিচালক ও কোস্টগার্ডের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরতে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে আইনজীবী দুলাল আবেদনে বলেছেন, “আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা, সংহতির উন্নয়নে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশে জরুরিভিত্তিতে বার্মার নাফ নদীর সীমান্ত খোলা রেখে মুসলিম রিফিউজিদের অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া উচিৎ।”

এই আবেদনের পক্ষে যুক্তি হিসেবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে লাখ লাখ বাংলাদেশির আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

“তখন প্রতিবেশী ভারত বাংলাদেশিদের ঢুকতে বাধা দেয়নি, বরং ঔষধ, খাবারসহ প্রয়োজনীয় প্রায় সব দিয়েছে। ঠিক এরকম মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য রোহিঙ্গাদের যারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে চায়, তাতে যেন কোনো প্রকার বাধা দেওয়া না হয়।”