রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিন: খালেদা

দমন-পীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না দিয়ে মানবিক কারণে আশ্রয় দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।
৫ লাখের বেশি শরণার্থীর ভার বহনের মধ‌্যে নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঢুকতে না দিতে সরকারের তৎপরতার মধ‌্যে রোববার এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান তিনি।খবর বিডিনিউজের।

বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে প্রতিবেশী অন‌্য মুসলিম দেশগুলোর প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন।

মিয়ানমারে সীমান্ত চৌকিতে জঙ্গি হামলার পর রাখাইন রাজ‌্যে সেনা অভিযানের মধ‌্যে বিপুল সংখ‌্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে সীমান্তে ছুটে এলেও বিজিবি তাদের ফেরত পাঠাচ্ছে।

বাংলাদেশে দশকের পর দশক আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরে সরকার শরণার্থী সমস‌্যার সমাধান করতে মিয়ানমারকে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে সামাজিক সমস‌্যার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েই খালেদা বলেন, “তা সত্ত্বেও গণহত্যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনকারী জাতি হিসেবে জীবন রক্ষায় আশ্রয় প্রার্থী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক কারণে যতদূর সম্ভব আশ্রয় দেওয়ার জন্য আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

“পাশাপাশি প্রতিবেশী অন্যান্য দেশ এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতিও আমি অভিন্ন আহবান জানাচ্ছি।”

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানের প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ইতোমধ‌্যে বলেছেন, নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণ দেখাবে বাংলাদেশ।
আশ্রয় দিতে আহ্বান জানালেও এটি রোহিঙ্গা সমস‌্যার স্থায়ী সমাধান নয় বলে মানছেন বিএনপি চেয়ারপারসনও। সেজন‌্য সরকারকে উদ‌্যোগী হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

“রোহিঙ্গারা যাতে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে জীবন-সম্পদ-সম্ভ্রমের অখণ্ড নিরাপত্তা ও পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিয়ে নিজ মাতৃভূমিতে বসবাস করতে পারে, সেই নিশ্চিয়তা বিধান কল্পে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বলিষ্ঠ কুটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।”

বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারের সরকার রাখাইন প্রদেশে বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গাদের তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করতে নারাজ। সামরিক শাসনের অবসানের পর গণতন্ত্রপন্থি অং সান সু চির দল এখন ক্ষমতায় থাকলেও সরকারের অবস্থান বদলায়নি।

রোহিঙ্গাদের নিপীড়নকে ‘গণহত‌্যা’ আখ‌্যায়িত করে খালেদা বলেন, “সংখ্যালঘু একটি জনগোষ্ঠির উপর এমন পৈশাচিক নির্মূল অভিযানে প্রতিটি বিবেকবান মানুষ স্তম্ভিত। তাদের সকলের হৃদয় বেদনামথিত। এমন ঘৃণ্য ও নিষ্ঠুর কার্যক্রলাপের নিন্দা জানাবার কোনো ভাষা নেই।”

মিয়ানমারের বর্তমান সরকারের কাজে হতাশ বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পরিতাপ ও দুঃখের বিষয় হচ্ছে, কোনো সামরিক জান্তা নয়, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির নেতৃত্বে পরিচালিত মিয়ানমারের প্রশাসনই এ মানবিক সন্ত্রাসী কার্য্কলাপের হোতা।

“যিনি নিজে দীর্ঘকাল নির্যাতিত হয়েছেন, তিনি কী করে এমন পৈশাচিক তাণ্ডবকে অনুমোদন করেছেন, ভেবে আমরা স্তম্ভিত হচ্ছি।”

নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে দেশবাসীসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কেবল কথামালা নয়, রোহিঙ্গাদের রক্ষায় বলিষ্ঠ এমন পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসুন, যাতে মিয়ানমার সরকার গণহত্যার কালো হাত গুটিয়ে নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও অপরাধীদের শাস্তি বিধানে বাধ্য হয়।”