রোহিঙ্গা সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান চায় বাংলাদেশ

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে জাতিগত সহিংসতার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান চায় বাংলাদেশ। এজন্য দেশটির সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতিকেই দায়ী করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী। তুচ্ছ ঘটনায় সেখানে শতাধিক রোহিঙ্গাকে হত্যা ও হাজার হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় বিশ্বের সব দেশকে রাজনৈতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ দেওয়ার জন্য সম্প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

গত মাসে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া রাখাইন প্রদেশের একটি পুলিশ চৌকিতে দুষ্কৃতকারীদের আক্রমণে ১২ জন পুলিশ নিহত হওয়ার ঘটনায় সেখানে রোহিঙ্গা জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী। দেশটিতে এখন পর্যন্ত শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছে। তবে সারা বিশ্ব রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য দেওয়ার কথা বললেও এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজনৈতিকভাবে মিয়ানমার সরকারকে চাপ দিচ্ছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এ সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের সরকারের সদিচ্ছার সংকটকেই দায়ী করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশকে রাজনৈতিক ভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, রাখাইনে বর্তমানে দুটি সমস্যা আছে। একটি মানবিক সমস্যা কারণ রোহিঙ্গারা অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার এবং অন্যটি হচ্ছে এ সমস্যা সমাধানের রাজনৈতিক সদিচ্ছা মিয়ানমারের নেই।

কিন্তু, আমরা চাই রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণ বের করে এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, গোটা বিশ্ব রোহিঙ্গাদের মানবিক সমস্যার বিষয়ে অনেক কথা বলছে, তারা নিগৃহীত হচ্ছে সেটি বলছে, তাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলছে, কিন্তু তাদের মূল সমস্যা সমাধানের কথা বলছে না।

মিয়ানমার সরকারের দ্বৈতনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে সহিংসতা শুরু হয়েছে অক্টোবর মাসের ৯ তারিখ থেকে এবং মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর অত্যাচারের কারণে সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে।

এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করতে রাজি হয়নি।

এর বিপরীতে চীন সীমান্ত সংলগ্ন শান প্রদেশে গোলযোগ শুরু হয় এক সপ্তাহ আগে ২০ নভেম্বর এবং এর এক সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমার ও চীনের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বৈঠক হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, এটি পরিষ্কার যে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমার আন্তরিক নয়।

অং সান সু চির নেতৃত্বে মিয়ানমারের বর্তমান সরকার গঠিত হবার পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার সু চির সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা আশাকরি মিয়ানমার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে যাতে করে এ মানবিক বিপর্যয়ের স্থায়ী সমাধান করা যায়।

এদিকে ইরান কালচারাল সেন্টারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দি ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেডক্রস (আইসিআরসি) ও ইরানি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে শনিবার সকালে ঢাকায় ‘ইসলাম ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্বাস ভায়েজি দেহনাভি বলেন রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে এবং এই অসহায় মানুষদের পাশে এগিয়ে আসা উচিত। রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে তিনি এনজিওগুলোকে আহ্বান জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মায়মুল আহসান খান একই অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতনকে হত্যাযজ্ঞ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইউএনএইচসিআর এখন বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের জন্যে সীমান্ত খুলে দেওয়ার কথা বললেও এতদিন ধরে তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধানে যেতে পারেনি।

তিনি বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশে যা ঘটেছে এখন রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর তাই ঘটছে। রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞ যুদ্ধাপরাধ ছাড়া কিছুই নয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি বাংলাদেশে এমন কোনও প্রতিষ্ঠান নেই যে রোহিঙ্গাদের ওপর কী ধরনের নির্যাতন হচ্ছে তা তদারকি করে।