উচ্চ রক্তচাপের টুকিটাকি

উচ্চ রক্তচাপ বা ‘হাই ব্লাড প্রেশার’ বা ‘হাইপারটেনশন’ আমাদের দেশের একটি অতি পরিচিত শারীরিক সমস্যা। পরে এটি ব্রেইক স্ট্রোকেরও কারণ হতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাচ্ছেন রাজধানীর ডা. মিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এএসএম সাখাওয়াত হোসেন।

পরিচিতি: হৃৎপিণ্ডের অবিরাম সংকোচন-প্রসারণজনিত রক্তের প্রবাহ রক্তনালীর দেয়ালে যে চাপ প্রয়োগ করে তাই হল রক্তচাপ। শরীরের অবস্থাভেদে রক্তচাপের তারতম্য হতে পারে। যেমন দৌড়ালে, ভয় পেলে কিংবা মানসিক আঘাত পেলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। অপরদিকে অতিরিক্ত ঘুম ও লবণের ঘাটতি রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে।

দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগনের ২০ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন।

রক্তচাপের ধরন ও পরিমাপ: রক্তচাপ পরিমাপের মাত্রা দুটি, সিস্টোলিক রক্তচাপ ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ।

১৯৯৯ সালে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ি মানুষের রক্তচাপের ধরন নিম্নরূপ-

কাঙ্খিত রক্তচাপ: যথাক্রমে সিস্টোলিক <১২০; ডায়াস্টোলিক <৮০

স্বাভাবিক রক্তচাপ: যথাক্রমে সিস্টোলিক <১৩০; ডায়াস্টোলিক <৮৫

উচ্চমাত্রায় স্বাভাবিক রক্তচাপ: যথাক্রমে সিস্টোলিক <১৩০ থেকে ১৩৯; ডায়াস্টোলিক <৮৫ থেকে ৮৯

উচ্চ রক্তচাপ গ্রেড-১: সিস্টোলিক ১৪০ থেকে ১৫৯; ডায়াস্টোলিক ৯০ থেকে ৯৯

উচ্চ রক্তচাপ গ্রেড-২: সিস্টোলিক ১৬০ থেকে ১৭৯; ডায়াস্টোলিক ১০০ থেকে ১০৯

উচ্চ রক্তচাপ গ্রেড-৩: সিস্টোলিক ১৮০ থেকে ২০০; ডায়াস্টোলিক ১১০ বা তদূর্ধ্ব

রক্তচাপের কারণ: বৃক্ক ও থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের বিভিন্ন রোগ, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উত্তেজনা, জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন, স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবন ইত্যাদি কারণে উচ্চ রক্তচাপ হয়ে থাকে।

উচ্চ রক্তচাপের কারণে মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিঁড়ে গেলে তাকে হেমোরেজিক স্ট্রোক বলা হয়। এর ফলে প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাতগ্রস্ততা দেখা দিতে পারে। এমন রোগীদের জন্য চিকিৎসা হিসেবে ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ থেরাপি, ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি ইত্যাদি দেওয়া হয়।

পাশাপাশি স্ট্রোক পরবর্তী খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে পুষ্টিবিদ এবং মানসিক অবস্থা পরিবর্তন সামলাতে মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেয়াও জরুরি।

সূত্র: বিডিনিউজ।
ছবি: রয়টার্স।