‘রোদে পুড়ে বৃষ্ঠিতে ভিজে সমুদ্রচরে কাজ করি কিন্তু যা পাই, তা দিয়ে সংসার চলেনা’

সুনীল বড়ুয়া:
কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক এলাকার মোস্তাকপাড়ার আবুল কাশেম এর বয়স এখন ৬২ বছর। ২২ বছর বয়সে তিনি যখন জাল সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন,তখন মজুরী পেতেন দিনে ৩০ থেকে ৩৫ টকা। এ পেশায় প্রায় ৪০ বছর পেরিয়ে এখন তিনি মজুরী পাচ্ছেন চার থেকে সাড়ে চার’শ টাকা। কিন্তু মাসের প্রায় অর্ধেক সময় কাজ না পাওয়ায় অভাব অনটনে দিন যাচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় সংসারের চাকা যেন বন্ধের উপক্রম হয়েছে তার।

আবুল কাশেম বলেন, ‘বলতে গেলে সারা জীবন এ পেশায় কাটিয়ে দিয়েছি। রোদে পুড়ে,বৃষ্ঠিতে ভিজে সমুদ্রের চরে জাল সেলাই করি। কিন্তু যে টাকা পাই, তা দিয়ে সংসার চলেনা। বয়স হয়ে গেছে,এখন কোন ভারী কাজ করার সামর্থ্যও নেই। কিভাবে বাঁচবো এখন।’

শুধু তিনি নন, দেশের বৃহত্তম কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক এলাকার শুটকী মহাল সংলগ্ন সমুদ্রচরে ফিশিং জাল সেলাইয়ের কাজে নিয়োজিত প্রায় চার’শ শ্রমিকের এমন দুর্দিন চলছে। উপযুক্ত মজুরী এবং কাজ কম পাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন তারা।

জাল শ্রমিক নুুরুল আবছার বলেন, ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি এ কাজ করছেন। বছর গুনলে প্রায় ৩০ বছর। কিন্তু এ পেশায় এতটা বছর পার করিয়ে দিলেও এখনো এটিকে নিরাপদ পেশা হিসাবে নিতে পারেননি। একদিন কাজ করলে আর এক দিন বসে থাকতে হয়। কাজ থাকেনা। তাই সংসারে টানাপোড়ন তো আছেই।

আবছার বলেন,শুরু দিকে ৩০-৪০ টাকা বেতন পেলেও,ভালভাবে চলে যেত সংসার। পরিবারে সদস্য কম ছিল,জিনিসপত্রের দামও ছিল অনেক কম। কিন্তু এখন মজুরী বাড়লে আমাদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।

জাল শ্রমিক মোহম্মদ হোসেন (৩২) বলেন, মাসে ১০-১৫ দিন কাজ পাই। বাকি সময় বেকার থাকতে হয়। এভাবে আমরা কতদিন বেঁচে থাকবো ?। এ অবস্থায় আমরা বিকল্প কোন কাজের সুযোগ চাই।

শুধু এরা নয়, দ্রব্য মূল্যের উর্দ্ধগতির সাথে সমানভাবে মজুরী না বাড়ায় এবং প্রতিদিন কাজ না পাওয়ায় একই অবস্থা স্থানীয় আব্দুর শুক্কুর,ছুরুত আলম,নুরুল আমিন,লোকমান হোসেন সহ প্রায় ৪শ জাল শ্রমিকের। এ অবস্থায় এ পেশায় জড়িতদের সবার দাবি বিকল্প কর্মসংস্থান।

জাল শ্রমিকদের মাঝি আব্দুল মালেক পুতু জানান, এ চরে বছরে নয়-দশমাস জাল সেলাইয়ের কাজ চলে। প্রায় চারশ শ্রমিক এ কাজে নিয়োজিত আছেন। কিন্তু দিনে ১৫ থেকে ২০ জনের বেশি শ্রমিক কাজ করতে পারেনা। এ অবস্থায় দেখা যায় একজন শ্রমিক মাসে কাজ পান ১০ থেকে ১৫ দিন। বাকি সময় কেউ কেউ সাগরে মাছ ধরতে গেলেও বেশির ভাগ শ্রমিককে বেকার থাকতে হয়। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প কাজের কর্মসংস্থান না হলে তাদের দুঃখ ঘুচবে না।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমিতোষ সেন আমাদের রামু কে জানান, জাল শ্রমিকেরাও আমাদের মৎস্য আহরণ সেক্টরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের মধ্যে যদি কেউ নিবন্ধিত থাকে তাহলে এরা আমাদের সব সুযোগ সুবিধা পাবে। আর নিবন্ধিত না হলেও কেউ যদি আমাদের সহযোগিতা চান, যেমন স্বল্প সুদে ব্যাংক লোনসহ নানা কাজে আমরা সহযোগিতা দিয়ে থাকি।