আ. লীগ ক্ষমতায় যেতে কখনও সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার করেনি: প্রধানমন্ত্রী

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সশস্ত্র বাহিনী জাতির অহঙ্কার’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনও সশস্ত্র বাহিনীকে ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেনি। বরং বরাবরই চেয়েছে একে একটি শক্তিশালী, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে। সোমবার বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।রিপোর্ট বাংলা ট্রিবিউনের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে কাজ করেছে। কারণ আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সশস্ত্রবাহিনীকে কখনও আমাদের ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করিনি। ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বারবার ক্যু করে সশস্ত্র বাহিনীর শত শত অফিসার-সৈনিকদের হত্যা করিনি। আমরা চেয়েছি শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপন করে একে একটি সুন্দর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে এবং এই সশস্ত্র বাহিনী যেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন হয়। শুধু বাংলাদেশের জনগণের নয়, সারা বিশ্বব্যাপী আস্থা-বিশ্বাস যেন অর্জন করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার সাহস আরও কেউ পাবে না বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা সমবেত হতে পারবেন। এর ফলে কেউ আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে সাহস পাবে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ব্যাপারে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে এই অনুষ্ঠানে খেতাবপ্রাপ্ত ৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ২০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। যা ব্যবহার করে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করতে পারবেন তারা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০১৫-২০১৬ সালের ভূমিকার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর পাঁচজনকে ‘শান্তিকালীন সেনা’, ‘বাহিনী পদক’ ও ‘অসামান্য সেবা পদক’ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে ৪৩টি জেলা ও ১৬১টি উপজেলায় কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে। এসব কমপ্লেক্সে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন তথ্য ও প্রদর্শনী থাকবে। এগুলোর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জাতি জানতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনমানের উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, তার সবই করা হবে। আজ বাংলাদেশকে যে গড়ে তুলতে পারছি, বাঙালি জাতি হিসেবে বিশ্বে যে সন্মান আমরা পাচ্ছি, এখানে আপনাদের বিরাট অবদান রয়েছে। আপনাদের মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে আজ দেশ স্বাধীন হয়েছে। কাজেই আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের কল্যাণার্থে যা যা করণীয় আমি তার সবই করে যাব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা আপনজন হারিয়েছেন বা পঙ্গু হয়ে আছেন বা যারা অবদান রেখেছেন, তাদের সবসময় সন্মানিত হিসেবে গণ্য করি। তাদের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া কর্তব্য হিসেবে মনে করি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করে। প্রতি বছর দিনটি ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস’ হিসেবে পালন করে বাংলাদেশ।’’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকেই বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্যও সব রকম চেষ্টা চলছে।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান তিন বাহিনীর প্রধান ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা রক্ষার সুমহান দায়িত্ব সশস্ত্র বাহিনীর ওপর ন্যস্ত। এ পবিত্র দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমাদের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো নির্মাণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।’ সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, ভৌত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিবিধ কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে ‘বদ্ধপরিকর’ বলে জানান তিনি।