নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে পুলিশ-সন্ত্রাসী বন্দুক যুদ্ধ

আব্দুল হামিদ, বাইশারী:
বান্দরকবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার রাবার শিল্প এলাকা খ্যাত বাইশারী ইউনিয়নের হরিণখাইয়া এলাকায় পুলিশ- সন্ত্রাসীর মধ্যে ঘন্টাব্যাপী বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।

একটি রাবার বাগানের কয়েকজন শ্রমিককে চাদাঁর দাবিতে হত্যা ও বাসা-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিতে আসা সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ-জনতার পক্ষে হতাহত না হলেও সন্ত্রাসীদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশ সুত্র গুলো দাবি করেন। ঘটনাটি ঘটেছে ২০ নভেম্বর রাত সাড়ে ১২ টায় বাইশারী নাজমা খাতুন রাবার বাগানের ১১নং প্লট এলাকায়।

বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের আইসি ও অভিযানে নের্তৃত্বদানকারী এসআই আবু মুছা আমাদের রামু কে জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বাইশারী থেকে অন্তত: ৫/৬ কিলোমিটার পাহাড়ি জনপদ হরিনখাইয়া নাজমা খাতুন রাবার বাগান এলাকায় যান। এ সময় তিনি সন্ত্রাসীদের আঁচ করতে পেরে প্রায় ১ ঘন্টার ব্যবধানে ১৭ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। বিপরীতে সন্ত্রাসীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ২০ থেকে ২২ রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ঘটনাটি অনেকটা পুলিশ- সন্ত্রাসী বন্দুক যুদ্ধই। তার ধারনা সন্ত্রাসীদের পক্ষে হতাহত হতেও পারে। তিনি আরো জানান, রাবার শ্রমিকদের নিরাপত্তা দিতে গিয়েই তারা মূলত গুলি ছুড়ে।

নাজমা খাতুন রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক আল-আমিন জানান, পাহাড়ে অবস্থানরত সন্ত্রাসীদের একটি দল গত কিছু দিন ধরে তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিল। সর্বশেষ তাদের চাঁদা প্রদানের দাবির শেষ সময় ছিল গত রোববার। এ কারণে তারা পূনরায় তার নিয়ন্ত্রিত নাজমা খাতুন রাবার বাগানের ফিল্ড অফিসে গিয়ে তিন শ্রমিককে অমানবিক মারধর করে। এতে ৩ শ্রমিকই আহত হন। আহতরা হলেন, পাহারাদার আলমগীর (২৭), মংপ্রু মার্মা (৩৬), মশৈনু মার্মা (২৮)। আহতের স্থানীয় বাইশারী বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, মারধরের পর সন্ত্রাসীরা সামান্য দূরে অবস্থান করার সুবাদে আহত শ্রমিকরা মোবাইল ফোনে পুলিশকে ঘটনার কথা জানান। আর খবর পেয়ে পুলিশ দ্রূত ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ত্রাসীদের মুখোমূখি হন।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ তৌহিদ কবির আমাদের রামু কে জানান, তিনি ঘটনাটি শুনার সাথে সাথে পুলিশ টহল পাঠিয়ে দ্রুত ব্যবস্থাও নিয়েছেন। আর ভবিষ্যতে রাবার বাগান মালিক বা শ্রমিকদের হত্যার হুমকির বিষয়ে নিরাপত্তা দিতে তিনি পরিকল্পনা করছেন কি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তবে পুলিশ এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তরিকভাবে কাজ করে আসছে।