বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে বাংলাদেশ ২২তম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ২২তম। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পিস এক রিপোর্টে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান বুধবার বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক এ রিপোর্ট প্রকাশ করে।রিপোর্ট রাইজিংবিডির।

সন্ত্রাসী তৎপরতা ও ঝুঁকির বিচারে তৈরি করা এই সূচকে গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ অবনমন ঘটেছে বাংলাদেশের। গত বছর অবস্থান ছিল ২৫তম।

২০১৫ সালে সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনার ওপর ভিত্তি করে এবারের প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। চার বছর ধরে এ সূচক প্রকাশ করছে সংস্থাটি।

সূচকে এবার বাংলাদেশকে রাখা হয়েছে ১৬৩ দেশের তালিকার ২২তম ক্রমে। স্কোর ৬ দশমিক ৪৭৯। স্কোর সমান হওয়ায় ১৬৩ দেশের এবারের সূচকে ক্রম রয়েছে ১৩০টি।

গত বছর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৯২১। আর ৫ দশমিক ২৫ স্কোর নিয়ে ২০১৪ সালে অবস্থান ছিল ২৩ নম্বরে।

ইকোনমিক অ্যান্ড পিসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর ছিল বাংলাদেশের জন্য খুবই কঠিন। বিগত দেড় দশকের মধ্যে গত বছরই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গতবছর বাংলাদেশে মোট ৪৫৯টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, যাতে প্রাণ গেছে অন্তত ৭৫ জনের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বেশিরভাগ সন্ত্রাসী ঘটনাই জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের মতো স্থানীয় নিষিদ্ধ সংগঠনের মাধ্যমে ঘটে। ২০১৫ সালেই প্রথমবারের মত বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলায় আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা ও আইএস এর নাম এসেছে, যেসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন।

bangladesh20161117134131-copy

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বে যতগুলো সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, তার চার শতাংশ ঘটেছে বাংলাদেশে। গত বছর সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনার ২০ শতাংশই ঘটেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশে। আফগানিস্তানে ১৪, পাকিস্তানে ৮ এবং ভারতে ঘটেছে ৭ শতাংশ ঘটনা।

ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বের প্রায় অর্ধেক সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতে। এ সূচকে প্রথম আছে ইরাক।

গতবছর কুয়েত, বাংলাদেশ, তিউনিশিয়া, সৌদি আরব, ফ্রান্স ও তুরস্কে সন্ত্রাসী হামলার প্রবণতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। আর এসব হামলায় অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে আইএস বা তাদের সহযোগী কোনো জঙ্গিদল।

তবে গত বছর সন্ত্রাসী ঘটনায় সারাবিশ্বে নিহত মানুষের সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ কমেছে। তারপরও যেসব সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে, তাতে প্রায় ৯ হাজার কোটি ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।