রামু বাকঁখালী নদী থেকে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ করার উদ্যোগ নিন

কক্সবাজারের রামু বাকাঁখালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন থামছে না। বালি উত্তোলনকারী স্থানীয় এবং প্রভাবশালী হওয়ায় অনেক সময় তারা কারো অভিযোগ এবং কথা গায়ে মাখতে চাননা।

প্রতি বছর নদীর পাড় ভাঙ্গনের কারণে তীরবর্তী শত শত পরিবার বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ হবার আতংকে থাকে। অতীতে এমন করুণ ঘটনার অসংখ্য নজির আছে। অনেকে বাকঁখালীতে ঘরবাড়ি, ভিটা, জমি এবং সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন।

গত বছরের কয়েক দফা বন্যা সংঘটিত হওয়ায় নদীর পাড় ভাঙ্গন চরমে এসে ঠেকেছে। তার উপরে নদীর ভাঙ্গনরোধে যে পাথরব্লক স্থাপন করা হয়েছে সেগুলোও বেশির ভাগ ধসে পড়েছে। ধসে পড়া এসব পাথর পুণরায় স্থাপনের কোন উদ্যোগ আজ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত ব্লকগুলো ধসে পড়ছেই।

আমরা লক্ষ্য করছি যে, ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করায় পাথরগুলোর ভিত নষ্ট হয়ে এসব পাথর আরো দ্রুত ধসে পড়ছে।

প্রতিবছর বাকঁখালীর চরের বালির মহাল ইজারা দেওয়া হয়। ইজারাদাররা বিনিয়োগকারী হিসেবে বালি উত্তোলন করার অধিকার তাদের আছে। এটা এক ধরণের ব্যবসা। তবে কোন পদ্ধতিতে এবং কোন কোন জায়গা থেকে বালি উত্তোলণ করা যাবে এর সীমানাও তাদেরকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়ে থাকে। ইজারাদারদের বেধে দেওয়া এসব নিয়ম মেনেই বালি উত্তোলন করতে হবে। কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশনা মোতাবেক বালি উত্তোলন না করলে জনস্বার্থে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বও কর্তৃপক্ষের উপর বর্তায়।

mechine-copyবাকঁখালী বিভিন্ন কারণে আজ মরতে বসেছে। দিনের পর দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে, ভরাট করা হচ্ছে। ৮ মিটার গভীরতা বিশিষ্ট বাকঁখালীর তলদেশ এখন উপর থেকে দেখা যায়। নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে আসায় সামান্য বৃষ্টি কিংবা ঢলের পানিতে তীরবর্তী বসতিগুলো প্লাবিত হচ্ছে, ফসলের জমি, ফসল নষ্ট হচ্ছে। জীবনযাত্রা দুর্বিসহ হয়ে উঠে। তাই নদীর তলদেশ খননের প্রয়োজন আছে। কিন্তু ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন আর পদ্ধতিগতভাবে নদী খনন এক কথা নয়।

নদীর বিভিন্ন জায়গায় মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করার ফলে সেসব জায়গায় অস্বাভাবিক গর্ত সৃষ্টি হয়। এসব গর্ত বিপদজনক হয়ে উঠছে বৈকি। এসব গর্তে পড়ে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছে। বিশেষ করে শিশুরা এসব অকাল মৃত্যুর শিকার হচ্ছে।

আমরা এও দেখতে পাচ্ছি যে, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। এর লাগাম টেনে ধরা দরকার। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা জনস্বার্থকে মাড়িয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষে আরো কঠোর হতে হবে। অন্যতায় নদীর ভাঙ্গন এবং অপমৃত্যু ঠেকানো যাবেনা।

জনস্বার্থের কথা আমলে নিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধে দ্রুত স্থায়ী এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হউক।