টেকনাফ সী-বীচ সড়কটি ক্ষত-বিক্ষত: উন্নয়নের জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্ধ

গিয়াস উদ্দিন ভুলু , টেকনাফ:
টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার সড়কটি ক্ষত-বিক্ষত হয়ে বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে। পৃথিবীর দীর্ঘতম টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের এই সড়কটি সংস্কারের অভাবে এখন মরণ ফাঁদে তৈরী হয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত চলাচলে দুর্ভোগে পড়ছে দেশী-বিদেশী শত শত পযটক ও বিভিন্ন প্রকারের যানবাহন। ঘটছে ছোট-বড় অনেক দুর্ঘটনা। তার পাশাপাশি এই গুরুত্বপুর্ণ সড়ক দিয়ে চলাচল করে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও কমলমতি স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতটি হচ্ছে কক্সবাজার ও টেকনাফ উপকুল এলাকায়।

কিন্তু এর বেশি ভাগ দীর্ঘতম সৈকতের অংশ টেকনাফ উপকুল এরিয়ায়। তাই প্রতিদিন বাংলাদেশ ও বিদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার পর্যটকের আগমন ঘটে এই উপকুল এলাকায়। এছাড়া টেকনাফের স্থানীয় নারী-পুরুষ ও যুবক-যুবতীদের পছন্দের ভ্রমণের স্থান হল এই টেকনাফ সমুদ্র সৈকত। অপরদিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮টি গ্রামের ৩০ হাজারের বেশি মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, টেকনাফ পৌরসভার শাপলা চত্বর হতে সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কটি ক্ষত-বিক্ষত হয়ে বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। এতে রাস্তা-পারাপারে ও চলাচলে দুর্ভোগে পড়ছে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা। তাদের আনন্দ এখন কষ্টে পরিনত হচ্ছে।

এই সড়কটির আশে-পাশে বসবাসকারি বেশ কয়েকজনের সাথে কথা করে আরো জানা যায়, কয়েক বছর আগে সৈকতের উক্ত সড়কটি সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু দুই এক বছর যেতে না যেতেই কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তে রুপান্তরিত হয়েছে। তারা আরো বলেন, এই সড়কটির উন্নয়ন কাজ করার সময় অসাধু ঠিকাদারা মোটা অংকের টাকা আত্নসাত করে নিম্নমানের কাজ করে। এতে বছর যেতে না যেতেই ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়।

এব্যাপারে টেকনাফ এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী আবসার উদ্দিন জানান, বিশ্বের দীর্ঘতম টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের এই সড়কটির ক্ষত-বিক্ষত সংস্কারের উন্নয়নের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু করা হবে। তিনি আরো বলেন, দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য এই সড়কটিকে ১৮ ফিট প্রশস্ত করে নতুন রুপে তৈরী করা হবে। গত ১৩ নভেম্বর এই সড়কটির জন্য সরকার ৩ কোটি টাকা বরাদ্ধ ঘোষনা করেছে। অনুমোদন হয়ে গেলে আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে খুব দ্রুত সড়কের উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে।