পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের অভিযান: চকরিয়ার মোর্শেদ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
কক্সবাজারের চকরিয়া কলেজের বিবিএ পড়ুয়া মোর্শেদ আলী হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী জাফর আলম (৫২) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শনিবার ১২ নভেম্বর গভীর রাতে চকরিয়ার চিরিংগা জনতা মার্কেট এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্বদেন পিবিআই কক্সবাজার জেলা টিমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ।

পিবিআই কক্সবাজার অফিস সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি চিরিংগার মৃত মোজাহের আহমদ কোম্পানীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যাকান্ড ছাড়াও ভূমিদস্যুতা ও মানবপাচারের গুরুত্বর অভিযোগ রয়েছে। জাফর আলম বিভিন্ন এলাকার সরকারী জমি দখলকারী দরিদ্র লোকজনকে তার বাহিনী দ্বারা ভয়ভীতি, নির্যাতন ও মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে উচ্ছেদ করে চকরিয়া, পেকুয়া ও বান্দরবানের লামাতে শত শত একর সরকারী জায়গা দখলে রেখেছে এবং সেগুলোতে একাধিক বাগান বাড়ী নির্মাণ এবং মৎস প্রজেক্ট তৈরী করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চকরিয়ার চাঁদের বাপের পাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে চকরিয়া কলেজের বিবিএ পড়ুয়া ছাত্র মোর্শেদ আলী বরইতলি ইউনিয়নের মাহমুদ নগর পাহাড়তলী এলাকায় দুবছর আগে বন বিভাগের আনুমানিক দুই কানি পাহাড়ী জমি অবৈধভাবে ঘেরাও দিয়ে একটি দোচালা ঘর নির্মাণ করেন। কিন্তু গ্রেপ্তারকৃত জাফর আলম উক্ত জমি তার কাছে বিক্রি করার জন্য মোর্শেদকে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকির মূখে মোর্শেদ আলী দেড় কানি জমি জাফর আলমের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে দু’লাখ টাকায় বিক্রি করতে রাজি হয়।

এদিকে জাফর কয়েক দফায় মোর্শেদকে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা দেয়। তবে পরবর্তীতে মোর্শেদ আলী বাজার মূল্যে উক্ত জমির মূল্য ছয় লাখ টাকার বেশি হবে বলে দাবি করে জাফর আলমকে জমি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে জাফর আলম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন! এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ মার্চ ২০১৬ তারিখ সন্ধ্যায় জাফর আলমের নির্দেশে জসিম উদ্দিনের নেতেৃত্বে অন্তত ২৫ জনের একটি স্বশস্ত্র বাহিনী ভিকটিম মোর্শেদ আলীকে তার দখলীয় উক্ত জমিতে নির্মিত ঘরে আক্রমণ করে ধারালো অস্ত্র ধারা শরীরের নানা স্থানে মারাত্মক জখম করে। খবর পেয়ে তার নিকট আত্মীয়রা ঘটনাস্থলে যান। পরে দ্রুত উদ্ধার করে চকরিয়া হাসপাতালে নেওয়ার পথে মোরর্শেদ মারা যায়।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন কক্সবাজার জেলা টিমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আমাদের রামু কে বলেন, মোর্শেদ হত্যার ঘটনায় ৪ মার্চ সংশ্লিষ্ট আইনে চকরিয়া থানায় মামলা হয়। এই মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। গ্রেপ্তারকৃত জাফর আলমই এ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। ইতিপূর্বে এই মামলার অন্যতম আসামী মোঃ জসিম উদ্দিনকেও আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।