বিতর্কিতরা পরবর্তী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না: কাদের

যেসব সংসদ সদস্য নিজ এলাকায় বিতর্কিত হয়ে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন তাদের আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার রাতে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বিতীয় তলায় ভিআইপি লাউঞ্জে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।খবর বিডিনিউজের।

দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরানো মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর মতই কঠিন লড়াই বলেও মনে করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী হিসেবে সড়ক পরিদর্শন করে আলোচনায় আসা কাদের।

পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত পাঁচ সংসদ সদস্য মনোনয়ন পাচ্ছেন না বলে বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গ টেনে ওই সাংসদ কারা এবং এরকম কোনো তালিকা আছে কি না তা জানতে চাওয়া হয় নতুন সাধারণ সম্পাদকের কাছে।

উত্তরে এরকম কোনো তালিকা নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “তবে সবার এসিআর প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে। যারা ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় বিতর্কিত, প্রশ্নবিদ্ধ, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন, তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। তাদের বিকল্প প্রার্থী আমরা দেখছি।”

দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি বলেন, “সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো কঠিন লড়াই। আমার পার্টিকেও শৃঙ্খলাবদ্ধ করা সড়ক পরিবহনের মত একটা কঠিন লড়াই।”

“আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ, তবে তৃণমূলে কলহ আছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। নেত্রী দলের চেয়ে উচ্চতায় অনেক উপরে। কিন্তু দলটা অনেক দুর্বল। শেখ হাসিনার মত শক্তিশালী নয়।”

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার যতটা শক্তিশালী দলটা ততটা নয় মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০২১ সালকে টার্গেট করলে দলকে আরও গতিময় ও স্মার্ট করতে হবে। তা না হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে না।

এসময় রাজনীতির মতো সাংবাদিকদের মধ্যেও ‘বসন্তের কোকিল’ রয়েছে মন্তব্য করে প্রকৃত সাংবাদিকদের সর্তক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ কিছুটা দুর্বল হলেও নিষ্ক্রিয় হয়েছে বলে বিশ্বাস করি না। তারা প্রকাশ্যে নিষ্ক্রিয়, নেপথ্যে সক্রিয়। হয়ত বড় ধরনের আরও ভয়ংকর কোনো হামলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এটা মোকাবেলা করাই বড় চ্যালেজ্ঞ।

সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডসহ বেশকিছু হত্যাকাণ্ডের বিচার বিষয়ে জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, “এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের দুইজন সাংসদ কারাগারে আছেন। বর্তমান সরকারের তিনজন মন্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। আগে কোনো সরকারের আমলে এরকম হয়নি। আপনারা কি সেটা দেখেন না?

“সরকার এসব ব্যাপার হালকাভাবে নিচ্ছে না। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডসহ কিছু শিশু হত্যার বিচার হয়েছে। দুয়েকটি ঘটনা হয়ত তদন্তে বা অন্য কোথাও সমস্যা হচ্ছে। তাই একটু ধীরে এগুচ্ছে। বড় দৃষ্টান্ত হলো সাংসদরা কারাগারে।”

মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান ও আলী আব্বাস, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাবেক সভাপতি এজাজ ইউসুফী, সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, শহীদুল আলম ও চৌধুরী ফরিদসহ অন্যরা।