পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রম দ্রুত করার দাবি

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
পর্যটন শহর কক্সবাজারে পল্লী বিদ্যুত সমিতির কার্যক্রমে ব্যাপক গতিশীলতা আনার তাগিদ দিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান মোঃ মাকসুদুল হক। তিনি বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগীদের সচেতন করে বিদ্যুৎ ব্যবহারে ও অপচয় রোধে উদ্বুদ্ধ করার পর সিস্টেম লস কমিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

আজ শনিবার ১২ নভেম্বর কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ‘কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি‘র গ্রাহক সেবা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ মাকসুদুল হক ওই নির্দেশনা দেন।

তিনি আরও বলেন, পিডিবির গ্রাহক সেবা নিয়ে তেমন কোন অভিযোগ পাওয়া যায়না। প্রত্যেক জেলায় পল্লী বিদ্যুৎ এর গ্রাহক সেবা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ। এই গন্ডি থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ঠিকাদারদের দালালী এবং চাঁদাবাজী বন্ধ করতে হবে। চাঁদাবাজী বন্ধ না হলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রমের অর্জিত সাফল্য ম্লান হয়ে যাবে। মনে রাখবেন ২০২১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সকলের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধ পরিকর।

মতবিনিময় সভায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেনের সভাপতিত্বে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজি আবদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আনোয়ারুল নাসের, কক্সবাজার জেলা জাসদের সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রণজিৎ দাশ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম রহিম উল্লাহ, কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাফায়াৎ আজিজ রাজু, মহেশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হোসাইন ইব্রাহীম, কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নির্বাহী প্রকৌশলিসহ ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন উপজেলার সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রম সম্পর্কে উপস্থিত সবাইতে অবগত করা হয়।

বক্তারা বলেন, কক্সবাজারের লবন ও চিংড়ি হ্যাচারি শিল্পকে বাঁচাতে বিদ্যুৎ সেবা বাড়াতে হবে। আর পল্লী বিদ্যুৎ দিয়ে তা সম্ভব নয়। এই জন্য ঈদগাঁও এবং টেকনাফকে পিডিবির আওতাভুক্ত করা অতি জরুরি। পল্লী বিদ্যুৎ প্রতিদিন এক ঘন্টা বিদ্যুৎ সেবাও দেয় না। অথচ গ্রহকেরা দিনের পর দিন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ এর মামলাগুলো জেলাতে নিষ্পত্তি করার দাবি জানানো হয়।