ইমানি দায়িত্ব পালনের ডাক দেওয়া সেই মুয়াজ্জিনকে খোঁজা হচ্ছে: এসপি

নাসিরনগরের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পেছনে ইন্ধনদাতাদের নাম শিগগিরই জানা যাবে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মাধবপুর উপজেলার একটি গোষ্ঠী এ কাজে জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার দিন মাধবপুরের একজন মুয়াজ্জিন মাইকে ইমানি দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাকে খোঁজা হচ্ছে। ওই এলাকায় স্থানীয় পুলিশের পাশপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’রিপোর্ট বাংলা ট্রিবিউনের।

সোমবার বিকালে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে এ কথা জানান।

এর আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, ঘটনার দিন মাধবপুরের একজন মুয়াজ্জিন মাইকে ইমানি দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেখান থেকেই ১৪টি ট্রাকে করে লোকজন নাসিরনগরে এসে হামলা করে।

মন্ত্রীর এ বক্তব্য সর্ম্পকে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমরা ওই মুয়াজ্জিনকে খুঁজছি। আমাদের টিম সেখানে কাজ করছে। ওই উপজেলায় মন্দিরে হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাসিরনগরের মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।’

এসপি জানান, হামলার ইন্ধনদাতা হিসেবে মিডিয়ার যাদের নাম এসেছে আমাদের তদন্তেও তাদের নাম এসেছে। তবে তাদের পরিচয় তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ভিন্ন পরিচয় থাকতে পারে। আমাদের কাছে তাদের পরিচয় কেবল দুষ্কৃতিকারী। এই দুষ্কৃতিকারীরা যে দল বা মতেরই হোক তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তে যাদের নাম বের হয়ে আসবে প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে এখানকার মানুষদের মনে আস্থা তৈরির কাজও আমরা করছি।’

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের মাধবপুর থানার ওসি মো. মুকতাদির হোসেন বাংলা ট্রিবিউন কে জানান, ফেসবুকে ছবি দিয়ে ধর্ম অবমাননার ইস্যুতে ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরের পাশপাশি মাধবপুরে একাধিক মন্দিরে হামলা হয়েছিল। আমরা দুটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। নাসিরনগরের হরিপুর গ্রামটি মাধবপুরের খুব কাছাকাছি। সেই দিনের ঘটনায় মাধবপুর থেকে হরিপুরে কেউ নাশকতা করেছে কিনা আবার নাসিরনগরের কেউ মাধবপুরে এসে নাশকতা করেছে কিনা তা ভিডিও ফুটেজ দেখে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।

মাধবপুর থানার পরিদশক (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাধবপুরে মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িতে হামলার ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে। তার মধ্যে একটি মামলার বাদী পুলিশ। এসব মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবগুলো মামলা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’