পেকুয়ায় কলেজের তিন শিক্ষককে পিটিয়ে আহতের ঘটনায় ৯ ছাত্রকে বহিষ্কার: সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি

ইমরান হোসাইন, পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের ছাত্রদল কর্মী সালাহ উদ্দীনের নেতৃত্বে¡ তিন কলেজ শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় অধ্যক্ষ বাদি হয়ে থানায় এজাহার দিলেও গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মামলা হয়নি। হামলায় জড়িত ৯ ছাত্রকে কলেজের পক্ষ থেকে বহিষ্কারপত্র পাঠানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় সংবাদ পরিবেশন করায় তিন সাংবাদিককে হুমকি দিয়েছে।

কলেজে ভাংচুর ও শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করা ছাত্রদল কর্মী সালাহ উদ্দীনসহ হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ করেছে পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগ। কলেজে হামলার ঘটনায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে পেকুয়ায়।

এদিকে অভিযুক্ত সালাহ উদ্দীন তাদের কর্মী নয় বলে দাবি করেছে পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরান জাদিদ মুকুট। তিনি শিক্ষককের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

কলেজ সূত্র জানা গেছে, ৩ নভেম্বর কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয়। ওইদিন এক ছাত্রের কাছে নকল পাওয়ায় তাকে বহিস্কার ও পরীক্ষায় নকল বন্ধে শিক্ষকেরা কঠোর হওয়ায় রোববার সকালে পরীক্ষার্থী ছাত্রদল কর্মী সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে শিক্ষকদের ওপর হামলা করা হয়। এতে ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আলম, মোহাম্মদ বশির ও রসায়ন বিভাগের প্রদর্শক এনামুল হক আহত হন।

পেকুয়ায় কর্মরত সাংবাদিকেরা অভিযোগ করেন, ছাত্রদল কর্মী সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে তিন শিক্ষককে পেঠানোর ঘটনা নিয়ে সোমবার অন্তত ২০টি পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষুদ্ধ হন ছাত্রদল কর্মী সালাহউদ্দিন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পেকুয়া চৌমুহনীতে গিয়ে প্রথম আলোর চকরিয়া প্রতিনিধি এস এম হানিফ, যায়যায়দিনের পেকুয়া প্রতিনিধি মোহাম্মদ ফারুক ও দৈনিক আজকের কক্সবাজারের পেকুয়া প্রতিনিধি ইমরান হোসাইনকে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে উশৃঙ্খল ৫-৬জন যুবক স্থানীয় সাংবাদিকদের অফিসে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হত্যার হুমকি দেন। এঘটনায় সাংবাদিক মোহাম্মদ ফারুক বাদি হয়ে সালাহউদ্দিনসহ অজ্ঞাত ৫-৬জনের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওবাইদুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জন শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়েছে। সোমবার বহিস্কৃত দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সালাহউদ্দিন, মিনার হোসেন, ইব্রাহিম খলিল, রেজাউল করিম, খোরশেদ আলম, আবদুর রহমান, আরিফুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, জয়নাল আবেদিনের ঠিকানায় বহিস্কারের চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দিলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাতটা) মামলা নেয়নি।’ ওবাইদুর রহমান আরও বলেন, মামলা না হওয়ায় শিক্ষকেরা ক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত।

এদিকে শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার সকাল ১১টার দিকে পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলটি পেকুয়া বাজারের আওয়ামীলীগের কার্যালয় থেকে বের হয়ে পেকুয়া চৌমুহনী ঘুরে পেকুয়া বাজারের ফাঁসিখালী সেতু সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কফিল উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মো. শওকত, আমিনুর রশিদ, মো. ইয়াছিন, ফারুক আজাদ, আরিফুল ইসলাম।

সমাবেশ থেকে তিন শিক্ষককে পেঠানো ছাত্রদল কর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কলেজে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া মোহাম্মদ মোস্তাফিজ ভুঁইয়া ছুটিতে রয়েছেন। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মনজুর কাদের মজুমদার আমাদের রামু কে বলেন, ‘কলেজের অধ্যক্ষের দায়ের করা এজাহারটি তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’